Wednesday , June 19 2019
নীড় পাতা / পর্যটন তথ্য / কাপ্তাই হ্রদ কীভাবে সৃষ্টি হল? কাপ্তাই লেকের ইতিহাস।
কাপ্তাই হ্রদ কীভাবে সৃষ্টি হল? কাপ্তাই লেকের ইতিহাস।

কাপ্তাই হ্রদ কীভাবে সৃষ্টি হল? কাপ্তাই লেকের ইতিহাস।

দক্ষিন এশিয়ার সবচেয়ে বড় হ্রদ বাংলাদেশের কাপ্তাই লেক। মাত্র অর্ধশতাব্দি আগেও বাংলাদেশে এই হ্রদের কোন অস্তিত্যই ছিলনা। মানুয়ের তৈরি এই বিশাল হ্রদটি কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে তা জানাবো এই পর্বে।

বাংলাদেশের দক্ষিন-পূর্বাঞ্চলে অবস্হিত ১টি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি। চট্টগ্রাম বিভাগের অধিনে আয়তনে এটি সবচেয়ে বড় জেলা। রাঙ্গামাটি বাংলাদেশের একমাত্র জেলা যার সাথে ভারত ও মায়ানমার ২টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে। প্রায় ২হাজার বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই হ্রদটি মূলত ১টি কৃত্তিম হ্রদ। মূলত রাঙ্গামাটি জেলাতেই জলাধারটি সীমিত যার অন্তর্ভুক্ত উপজেলাসমূহ হচ্ছে রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই, নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি।
কর্ণফুলি নদীর পানি দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরির জন্য তৎকালীন ইংরেজ সরকার ১৯০৬ সর্বপ্রথম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সম্ভ্যাব্যতা যাচাই করে। পরবর্তীতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার আমেরিকার অর্থায়নে ১৯৫৬ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মান শুরু করে এবং এর নির্মান কাজ শেষ হয় ১৯৬২ সালে।৬৭০.৬ মিটার দীর্ঘ ও ৫৪.৭ মিটার উচ্চতার এই বাঁধটি নির্মান করে ইন্টারন্যাশনাল ইন্জিনিয়ারিং কোম্পানী এবং ইউতাহ ইন্টারন্যাশনাল ইনকর্পোরেট। কাপ্তাই লেকের সর্বোচ্চ গভীরতা ৩২মিটার ও সর্বনিম্ন গভীরতা ১৫.৫মিটার। গড় গভীরতা ৯মিটার। রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলা সুভলংয়ের কাছে প্রথম বাঁধ নির্মানের পরিকল্পনা থাকলেও সেখানে বাঁধ দিলে ভারতের মিজোরামের আংশিক পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা থাকায় তৎকালীন ভারত সরকারের আপত্তির মুখে পরবর্তীতে কর্ণফুলী নদীর আরো ভাটির দিকে বাঁধ নির্মান করে।
কর্ণফুলি নদীর উপর কাপ্তাই বাঁধ নির্মান করার ফলে রাঙ্গামাটি জেলার প্রায় ৫৪ হাজার একর কৃষি জমি ডুবে যায় যা ঐ এলাকার মোট কৃষি জমির ৪০ শতাংশ। এছাড়াও সরকারি সংরক্ষিত বনের ২৯ বর্গমাইল এলাকা ও অশ্রেনীভুক্ত ২৩৪ বর্গমাইল বনাঞ্চলও ডুবে যায়। বাস্তুচ্যূত হয় প্রায় ১৮ হাজার পরিবারের মোট ১ লাখ মানুষ। বাঁধ নির্মানের পূর্বে রাঙ্গামাটির ২৫০ বর্গমাইল ডুবে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হলেও বাঁধ নির্মানের পর ৩৫০ বর্গমাইল ডুবে যায়। ১৯৭০ সালে ফার ইস্টার্ন ইকোনোমিক ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয় কর্ণফুলি প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপুরন হিসেবে ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ হলেও তৎকালীন পাকিস্তান সরকার শুধু মাত্র ২.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে। বর্তমানে কাপ্তাই লেক রাঙ্গামাটি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। কাপ্তােই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি মানুষ্য সৃষ্ট বিষাল এই লেকে প্রচুর পরিমানে মিঠাপানির মাছ চাষ হয়। প্রতি বছর প্রায় ৭০০০ টনেরও বেশি মাছ উৎপাদন হয়। তবে গবেষকরা মনে করেন আনুমানিক ৯০ বছর পর এর তলদেশে পলিপাথরের আস্তরনে এই হ্রদটি পুরোপুরিভাবে মাছ চাষের অনুপযোগী হয়ে যাবে।
কাপ্তাই লেকের মাধ্যমে পুরো রাঙ্গামাটি ‍জুড়ে একটি বৈচিত্রপূর্ণ ও দীর্ঘ জলপথের সৃষ্টি হয়েছে। আগে যেখানে অনেক যায়গায় যেতে সারাদিন বা তার চেয়েও বেশী সময় লাগত সেখানে এখন স্পীডবোট বা লঞ্চে মাত্র কয়েক ঘন্টায় যাওয়া যায়।

কাপ্তাই লেককে ঘিরেই মূলত রাঙ্গামাটি জেলার পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে। এই লেকের উপরে রয়েছে বিখ্যাত ঝুল্নত ব্রীজ, এখানে আছে শুভলং জলপ্রপাত। এছাড়াও রাঙ্গামাটিতে রয়েছে আরো অনেক দর্শনীয় স্থান। সেসব স্থান দেখতে কেমন? কোনটি কোথায় অবস্থিত? কীভাবে যাওয়া যায়? এ সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বলবো আমাদের পরের পর্বে।

ভিডিও টি দেখতে ক্লিক করুন

আমাদের সম্পর্কে My Bangladesh

Leave a Reply